লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের

ডেস্ক নিউজ ‍॥ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার আগেই নতুন করে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। এর মধ্যেই ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।

বুধবার তিনি বলেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র- দুই পক্ষকেই তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতির কথা হয়েছে, তা যেন লেবাননসহ সব সংঘর্ষের জায়গায় কার্যকর করা হয়।’

তিনি এই আশা ব্যক্ত করার সময়ও লেবাননের বৈরুতে ইসরায়েলের হামলা চলছিল।

এর আগে মঙ্গলবার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য সংঘাত থামাতে রাজি হয়। এতে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি টেকেনি।

বুধবারই লেবাননে তীব্র হামলা চালায় ইসরায়েল। গত মাসে হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াই শুরুর পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় হামলা। এতে ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন নেই।

রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ভিন্ন কথা বলেছে। তাদের দাবি, এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে বৈরুতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এদিকে ইরানও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। মধ্যস্থতাকারীদের তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো যুদ্ধবিরতির আওতায় অবশ্যই লেবাননকে রাখতে হবে।

ম্যাখোঁ জানান, তিনি বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তিনি তাদের স্পষ্ট করে বলেন, লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত না করলে কোনো যুদ্ধবিরতিই বিশ্বাসযোগ্য বা দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

শুধু তাই নয়, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে আরো কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ, তেহরানের ভূমিকা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা।

এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালামের সঙ্গে আলোচনা করেন ম্যাক্রন। এ সময় তিনি ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার প্রতি তীব্র নিন্দা জানান। তার মতে, এসব হামলা যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

ম্যাখোঁ আরো বলেন, ‘লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা খুবই জরুরি। দেশটির সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে সরকারের চেষ্টাকে সমর্থন করবে ফ্রান্স। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করতে হবে।’