যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ দফা মানতে বাধ্য করেছি : ইরান

ডেস্ক নিউজ ‍॥ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের ‘বিরাট বিজয়’ হিসেবে দাবি করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ওয়াশিংটন তেহরানের দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ঘোষিত এই বিরতিকে ইরান একটি ‘সাময়িক সুযোগ’ হিসেবে দেখছে। শুক্রবার থেকে ইসলামাবাদের শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় সামুদ্রিক চলাচল, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে যা আছে—

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পূর্ণাঙ্গ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শত্রুরা ইরানের বিরুদ্ধে তাদের ভীরুতাপূর্ণ ও অবৈধ যুদ্ধে এক চূর্ণবিচূর্ণ পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করেছে। শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পবিত্র রক্তের বরকতে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ মুজতবা খামেনির দূরদর্শী নেতৃত্বে ইরান এই বিশাল জয় অর্জন করেছে।’

বিবৃতিতে আরো দাবি করা হয়েছে, ‘অপরাধী আমেরিকা ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্ব বজায় রাখা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার স্বীকৃতি, ইরানের ওপর আরোপিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, নিরাপত্তা পরিষদ ও বোর্ড অব গভর্নরসের সব প্রস্তাব বাতিল, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সব সেনা প্রত্যাহার এবং লেবাননের হিজবুল্লাহসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।

‘আমাদের হাত এখনো ট্রিগারে’ : ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই আলোচনা মানেই যুদ্ধের সমাপ্তি নয়। তেহরান বলছে, গত ৪০ দিনের যুদ্ধে তারা আমেরিকা ও জায়নবাদী ইসরায়েলের সামরিক যন্ত্রকে প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে। ইরানের দাবি, আমেরিকা কয়েকবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলেও তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং ট্রাম্পের দেওয়া কোনো আল্টিমেটামকেই গুরুত্ব দেয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমেরিকা এখন ধসে পড়ার দ্বারপ্রান্তে এবং তাদের সামনে আত্মসমর্পণের আর কোনো পথ নেই। যদি আলোচনায় আমাদের দাবিগুলো চূড়ান্তভাবে মেনে নেওয়া হয়, তবেই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটবে। অন্যথায় আমরা যুদ্ধের ময়দানে লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের হাত এখনো বন্দুকের ট্রিগারে রয়েছে এবং শত্রুরা সামান্যতম ভুল করলেই তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’

ইসলামাবাদে আলোচনা নিয়ে প্রত্যাশা : শুক্রবার ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আলোচনায় ইরান দুই সপ্তাহ সময় বরাদ্দ করেছে। তেহরান এই আলোচনাকে রণক্ষেত্রেরই অংশ হিসেবে অভিহিত করে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং বিজয় উৎসব চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে আমেরিকানদের প্রতি তাদের চরম অবিশ্বাস বজায় থাকবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে ওয়াশিংটনের বিজয় হিসেবে দাবি করলেও ইরান বলছে, ট্রাম্পের অজ্ঞতা এবং জায়নবাদীদের প্ররোচনায় শুরু হওয়া এই যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত আমেরিকার জন্য অবমাননাকর পরাজয় বয়ে এনেছে। সূত্র : মিডল ইস্ট আই